কবির কাহন

পরীক্ষা

প দিয়ে আপাতত যে শব্দটি মনে আসছে, তা মাথা থেকে অনেক নিচে। পরীক্ষা, প্রতিষ্ঠান, পাশ, প্রথম এই শব্দগুলো মাথায় আসতে চায় না; অধম। তাই পরীক্ষার পেছল মানি হওয়া দরকার, নিচে সেমিনার হলে অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা চলে, সেশন জটে পড়েছিল আটকা, যে পরীক্ষাটা, সে’টা চলছে টা টা দিতে দিতে, বসে আছি হলের সিটে, আর দিন পনের আছে পরীক্ষা পর্ব শেষ হতে, উত্তর পত্র সাদা খাতা বিলি হয়েছে মিনিট আগে। তিন বছরের সেশন জটে জমে গেছে অনেক উত্তর- অপেক্ষা করছি তাই প্রশ্নপত্রর। পরীক্ষা চলছে… বিষয়, নাম, শ্রেণী বসে গেছে, জায়গা মত, একটু পরে প্রশ্ন পাবে হাতে তুমি ও, ঘষবে কলম খাতার সাথে সবার মত। তোমার সঙ্গে আছে কলম, কালি ও দোয়াত, আর আছে সঙ্গী এক অসীর মতো। 

ঢাকা

সায়েন্স ল্যাব বা ল্যাব এইড নামক এক জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিলাম জাহাঙ্গীরনগরে যাবার সবুজ বাসের অপেক্ষায়; হাই বিম এর আলোয় কুশাচ্ছন্ন রাস্তা ঝলমল করে আসবে পঙ্খীরাজ – ক্যাম্পাসের যাবার উড়াল গাড়ি! মনে পড়ে, খুব মনে পড়ে আলবিরুনি হল থেকে চৌরঙ্গী হয়ে জয় বাংলা; ছেলেরা একসঙ্গে হলে চলে তাস খেলা, মুখ থেকে বের হয় ধুয়া, শীতকালের কুয়াশা,… এই যে এসে গেলো নীলক্ষেতের মোড়ে  চান্দের গাড়ি; এইসব ভাবতে ভাবতে দেখছিলাম- খুব ভালো করে সায়েন্স ল্যাবের মোড় টা; একটা মশাল মিছিল গেলো দেখা রাস্তার উপরে, গণতন্ত্র মরা মরা! কয়েকটা ককটেল ফাটার শব্দে বন্ধ হলো দোকানের সাটার; মার্কেটের মালিকেরা ফেরি আর হকার; মিছিল চলে গেলো নিউ মার্কেটে, গাউছিয়া ঘুরে; ফেলে রাখে রাস্তার আইল্যান্ডে বিচ্ছিরি অন্ধকার, প্রাণের আকুতি আয় বৃষ্টি ঝেপে কিন্তু নেমে আসে মেপে মেপে অন্ধকার ঢাকার শপিং সেন্টারে। মানুষ না কি সত্য সবার উপরে? এক বিল্ডিং এর প্রধান ফটকের বাইরে, কিছু হতচ্ছাড়া মরছে রাস্তা ঢুঁড়ে ঢুঁড়ে। এই শহরের রাস্তা আবার আলোয় ঝলমল করে!

জীবনানন্দ

এবার ফের। ফিরে আস পত্রঝরা দিন, প্রিয় ঋতু শীত। বসন্তের হাতে কামড়ের চিহ্ন হয়ে ফের। উপরে ঢিল ছুড়ে দিলে মাধ্যাকর্ষণ বলে নিচে ফিরে আসে। সব কিছুই ফিরে; ফিরবে তুমিও। চুল পরিমান ও যেতে পারবেনা, কোথায় যাবে? চিরুনিতে করে চুল যায় কতদূরে? যাবে কোথায়? তোমার কলমের শির কালির আঁচড় কাটে এখনও কবিতার খাতায়। পুনর্জন্মে অতীতের চিহ্ন কি আসবে না ফিরে, কি এমন কাজ পরপারে, সব ছেড়ে ছুড়ে ফিরে আস, নিয়ে আস ঝরা পালকের দিন, সাত টি তারার তিমির বোধে করো জাগ্রত। এবার ফের জীবনানন্দ। এবার ফের। ফিরে আস, চুল পরিমান ও যেতে পারবেনা; কোথায় যাবে? চিরুনিতে করে চুল যায় কতদূরে? 

এলিয়েন

কোন মহাযান ভিড়ে রাত দুপুরে? এক লাইনের মতো একলা আমি টিউবলাইটের সাথে জ্বলি একলা ঘরে, একলা হতে হতে হতে খুব কাছে কক্ষপথে দেখি শনির বলয় সুদর্শন চক্রে!  মিথেনে পুড়ে বৃহস্পতি, ডায়মন্ডের বৃষ্টি শাড়ির আঁচলে; জানালার এপারে, অনেক রাতে শুকনা ডাল পালা গড়ায় ধুলার পরে, যদিও দেখি আকাশ- দেখি এলিয়েন ভিড়ে সুনীল বিশ্বাস এর উঠানে! এতো রাতে? প্রশ্ন টা মিলায় নিরুত্তরে।

নৈঃশব্দ্য

নৈঃশব্দ্য ঝুলে জানালা ধরে অন্তরালে, পর্দায় নৈঃশব্দ্য নেমে আসে সন্ধ্যা হলে, নৈঃশব্দ আমাদের কণ্ঠনালীতে! নৈঃশব্দ্যের জ ফলা দুইটি আঁখিতে। নৈঃশব্দ্য নেমে আসে পায়ের নিচে। নৈঃশব্দ্য নেমে আসে ঘাসের পিঠে, নৈঃশব্দ্য নেমে আসে সবুজ মাঠে, নৈঃশব্দ্য রাস্তায়, রথের মেলায় সাভার টু  ধামরাই আরিচা রোডে, নৈঃশব্দ ভাগ্যরেখায়, নেমে আসে নৈঃশব্দ্য আমাদের হাতে, নৈঃশব্দ্য দোলনার দোলায় বিংশ শতাব্দীর নদীতে, বৃত্তাকার ঢেউয়ে নেমে আসে নৈঃশব্দ্য পূজার বন্ধে, গার্মেন্টস শ্রমিকের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। অনেক শব্দের ভিড়ে নৈঃশব্দ্য কে সঙ্গ করেছি, নিঃশ্বব্দে; মাঝরাতে দরজার পাল্লারা শিশির পতনের শব্দে দাঁড়িয়ে থাকে জড়িয়ে একে অন্যকে, নিঃশ্বব্দে; নৈঃশব্দ্য নেমে আসে কণ্ঠনালীতে, আমাদের হাতে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্য ক্লাসের ছাত্র থাকা অবস্থায় রচিত কবিতাগুচ্ছ, রচনাকাল ২০০০ সাল