মহিকণ্টক এর গান

হাজার বছর পূর্বে সেন আমলে বাংলায় ছিল কুলীণ প্রথা; কুলিন অর্থ যখন জন্ম দিয়ে বিচার করা হতো মানুষের অধিকার। যেমন শূদ্র কূলে বা সম্প্রদায়ে জন্ম নেয়া সন্তানদের ছিলোনা শিক্ষা গ্রহণের কোনো অধিকার। বাংলায় শুরু হয় রেসিজম; সেই সঙ্গে যোগ হয় ব্রাহ্মণ্য সামন্তবাদ, মরার উপর খাড়ার ঘা। মানুষ হলো অতিষ্ঠ। এরই সুযোগ নেয় বখতিয়ার খলজী। আগ্রাসী তুর্কি সেনা। তুর্কি সৈন্যদের মত সেনেরাও বাঙালি ছিল না। সেন আমলে দরবারী সাহিত্যচর্চায় বাংলা প্রায় নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু কেন? এই প্রশ্নের উত্তর মহিকণ্টকের গানে, মুসাফির মুক্তার কণ্ঠে।

ভিন্ন ভিন্ন জাতি দেখি, কে বানাইলো ভিন্ন ভাষী; 
মুখে মুখে ধর্ম মানি, অন্তরালে বিভেদ বাণী; 
(অবিশ্বাসে পাহাড় ধসে, নদী শুকায় মেঘ হয়ে;)
দূরের বাদ্য শুনে লাভ কি, কে করেছে ধর্ম সৃষ্টি; 
কালচারাল ডাইভার্সিটি, সহিষ্ণু হও পরমতে, 
অবিশ্বাসে পাহাড় ধসে, নদী শুকায় মেঘ হয়ে;
ব্ল্যাক লাইফ ম্যাটার মানি, সাধন নগর নিউইয়র্ক সিটি 
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সবার উপর মানুষ সত্যি;
অবিশ্বাসে পাহাড় ধসে, নদী শুকায় মেঘ হয়ে;
ভিন্ন ভিন্ন জাতি দেখি কে বানাইছে ভিন্ন ভাষী…

কালচারাল ডাইভার্সিটি আমেরিকায় এখন যেমন দেখি, তেমনটি ভারতবর্ষে তখন ছিল না। সেই আমলে হিন্দু–মুসলিমের মিশ্র শাসন ছিলোনা। আমেরিকায় ডাইভার্সিটি ইনক্লুশন এর গুরুত্ব যেমন- জাত প্রীতির উর্ধে উঠার প্রচেষ্টা দেখা যায়, তেমনটি ভারতবর্ষে তখন ছিল না। আমেরিকার শাসকগোষ্ঠী জানে সাম্প্রদায়িকতা এক মহা বিপদ। এখানে যেমন ব্ল্যাক লাইফ ম্যাটার, ঠিক তেমনি ব্রাউন লাইফ ও ম্যাটার। ১৫শ শতাব্দীতে যখন চৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাব ঘটে, তিনি ছিলেন সাধু গুরু বৈষ্ণব – প্রথম বাঙালি অবতার। তার ভাব দর্শন দ্বারা প্রভাবিত কবি চন্ডিদাস লিখলেন সবার উপর মানুষ সত্য। যখন হিন্দু–মুসলিমের মিশ্র শাসন কায়েম হয় বাংলায় তখন মঙ্গলকাব্যের বিকাশ, বাংলায় পুঁথি–পাঁচালির বিস্তার, রামায়ণ মহাভারতের বাংলায় অনুবাদ ও বাংলায় দলিলপত্র লেখার স্বীকৃতি সূচনা হয়। কবি চন্ডিদাস লিখলেন সবার উপর মানুষ সত্য।

যখন টলারেন্স সহিষ্ণুতা নষ্ট হলো ভারত টুকরা টুকরা হয়ে গেলো। আমেরিকান রা মনে করে ভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতি টলারেন্স প্রদর্শন আবশ্যকীয়। চৈতন্য মহাপ্রভুর মত তাই মার্টিন লুথার কিং কেও বলতে শুনি, প্রত্যেকটি মানুষ স্বতন্ত্র এবং বিশিষ্ট, সবাই সমান নয় – ডিফারেন্ট, কিন্তু কেউ কারো চেয়ে কম না। সবার অধিকার সমান। এই মতে মতুয়া হতে পারলে ধর্ম মানা সম্ভব। নচেৎ নয়। মানুষের বাঁচার জন্য সমাজে এসেছে নানা আনুষঙ্গিক উপকরণ; কিন্তু মনে রাখতে হবে মানুষের জন্য যে সবের সৃষ্টি সেগুলো যদি মানুষের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় তবে তাদের সৃষ্টির সার্থকতা শুধু নষ্ট হবে না, সেই সঙ্গে মানুষের মানবিক গুরুত্ব হ্রাস পাবে; তাই কবি মন প্রকৃত তথ্য বুঝতে পেরে বলে উঠেছে ‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।’

১৯৫২’র ভাষা আন্দোলনে আত্মত্যাগী ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের উদ্দেশ্যে এ গানের কবিতায় সুরারোপ করেন হামিদ জামান। গানে কণ্ঠ দিয়েছেন হামিদ জামান ও শরীফ সিদ্দিকী। বাঁশিতে সুর সংযোজন করেছেন সৌগত সরকার। বিশেষ কৃতজ্ঞতা জাভেদ হোসেন। হামিদ এবং শরীফ এর কম্পোজিশনে কবিতা, গান ও যন্ত্র সংগীতের সুষম সমন্বয় যেন স্বাধীনতা কেন্দ্রিক মিশ্র রাগ তৈরী করে।  শরীফ সিদ্দিকী জানান,  “স্বাধীনতার ৫০ বছর উপলক্ষে মহিকন্টকের ব্যানার কানাডা ও আমেরিকা প্রবাসী আমরা চারজন বের করলাম কবিতা, গান, যন্ত্রসংগীত আর ইতিহাসের অনবদ্য সমন্বয়ঃ স্বাধীনতা। জ্যাজ থেকে দেশী ক্ল্যাসিকাল, সে থেকে করুন সাইকেডেলিক, কয়েকটি জনরা ভ্রমন, আর ৭ স্তরের হারমোনি কোরাস। সাথে আছে ইতিহাস চিত্র। ভিন্নরূপে উদযাপন করুনঃ স্বাধীনতা”

(মধ্য রাতে রাস্তা হাঁটা, শহীদ মিনারে সূর্য দেখা, মোদের গর্ব মোদের আশা)
সিন্ধু নদীর সভ্যতায়
পাল সেন মোঘল বর্গী ধায়
১৭৫৭ ১৯৫২
স্বাধীনতা স্বাধীনতা, সবার আগে জনতা
সোনার খনি স্বাধীনতা, লক্ষ প্রাণের ত্যাগের কথা।
জাগে জনতা ফুলের কুড়ি
আন্দোলনে সোনার তরী
প্রভাতফেরি একুশে ফেব্রুয়ারি;
স্বাধীনতা স্বাধীনতা, সবার আগে জনতা
সোনার খনি স্বাধীনতা, লক্ষ প্রাণে ত্যাগের কথা।
ভাষা আন্দোলন আর কি খবর
বাক স্বাধীনতার হয় যে কবর
২৬সে মার্চ ১৬ই ডিসেম্বর
স্বাধীনতা স্বাধীনতা, সবার আগে জনতা
সোনার খনি স্বাধীনতা, লক্ষ প্রাণের ত্যাগের কথা।
https://youtu.be/_sBrK3xgukI

১৯৭১ সালের পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশ সবসময় কোনো না কোনো বিদেশী জাতি দ্বারা শাসিত হয়েছে। ১৭৫৭ সালে যে স্বাধীনতার সূর্য ডুবে যায় পলাশীর বাগানে তার জাগরণ আবার ঘটে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে। কবি এর তুলনা করেছেন শহীদ মিনারে সূর্য উদয়ের চিত্রকল্প দিয়ে। ১৯৭১ সালের ২৬সে মার্চ এর গণহত্যার ফল, কঠিন সংগ্রাম, এবং সংগ্রামের মাধ্যমে একটি স্বাধীন ভুখন্ড বাংলাদেশ এর জন্ম হয় – প্রিয় বাংলাদেশ। আমরা স্বাধীনতার স্বাদ পাই। তবুও মানুষ স্বাধীনতার জন্যে আন্দোলন করে। এখনও। তাহলে কি এই স্বাধীনতার অর্থ? কি এর মূলমন্ত্র? একজনের স্বাধীনতা যেন অন্যজনের স্বাধীনতাকে হরণ না করে। সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপর নাই। এটাই স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা। কবি সেই স্বাধীনতা কে তুলনা করেছেন মধ্য রাতে রাস্তা হেঁটে শহীদ মিনারে সূর্য দেখা’র সাথে। তুলনা করেছেন খরস্রোতা নদীর সাথে, যে নদী সময়ের তারতম্যে স্রোতহারা। খুঁজতে গেলে তাকে যায় না ধরা। কারণ সে শুধুই কল্পনা, শুধুই অধরা। অপ্রাপ্তির স্বাদ বুকে গভীর অন্তরালে স্বাধীনতার বেঁচে থাকা। বেঁচে থাকার স্বাধীনতা। কবি মোহাম্মদ নাসিরুল্লাহ জানান, স্বাধীনতার অর্থ দেশ কাল বয়স, মানসিক অবস্থা ও সামাজিকতা ভেদে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ বহন করে। এই গীতে কবি জীবনের বিভিন্ন স্তরের স্বাধীনতার বিভিন্ন স্বরূপ বর্ণনা করেছেন। কৈশোর, তারুণ্য, ও যৌবনে স্বাধীনতার এক রূপ, আর তার আরেক রূপ বার্ধক্যে বা তার অনতি পূর্বে স্বাধীনতার অর্থ খুঁজে না পাওয়ায়। মত প্রকাশের স্বাধীনতায়। 

নিউইয়র্ক প্রবাসী কবি, লেখক ও গীতিকবি  নাসির উল্লাহর লেখা একটি কবিতা দেশাত্মবোধক গান আকারে পাওয়া যাবে এ্যাপল কোম্পানীর জনপ্রিয় আইটিউনস, আমাজন, স্পটিফাই ও ইউটিউব মিউজিকসহ ১০০টির বেশি মিউজিক স্টোরে। ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গানটি রিলিজ হয়েছে। তার লেখা কাব্যগ্রন্থ ‘মহিকন্টক’ বইয়ের স্বাধীনতা কবিতাটি গানের কথা হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে।

১৯৭১ সালের পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশ সবসময় কোনো না কোনো বিদেশী জাতি দ্বারা শাসিত হয়েছে। প্রাচীন বাংলাদেশ সম্পর্কিত যে তথ্য পাওয়া যায় ( আর সি মজুমদার এর ইতিহাস বই থেকে) তা অনুযায়ী বাংলাদেশ এর আদি নাম ভাঙ্গাদেশ। পাহাড়ের পাদদেশ থেকে নিম্নভূমির বিস্তৃত সমতট অঞ্চল বলে এর নামকরণ এরকম। ১৯৭১ সালের ২৬সে মার্চ এর গণহত্যার প্রতিবাদে কঠিন সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন ভুখন্ড বাংলাদেশ পাই আমরা। ১৭৫৭ সালে যে স্বাধীনতার সূর্য ডুবে যায় পলাশীর বাগানে তার জাগরণ আবার ঘটে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে। শহীদ মিনারের সূর্য – আলোকিত সোনার খনি, স্বাধীনতার প্রতীক। একুশে ফেব্রুয়ারী তে যে স্বাধীনতার আন্দোলনের সূচনা হয় তা যেন সূর্যালোকে আলোকিত সোনার খনি। স্বাধীনতা স্বাধীনতা, সবার আগে জনতা, সোনার খনি স্বাধীনতা, লক্ষ প্রাণের ত্যাগের কথা।

গানের কথা: মনে পরে সে স্লোগান মিছিলে, আন্দোলনে সোনার ছেলে। নূর হোসেন ডাকে আয়, গণতন্ত্র মুক্তি পায়।

স্বাধীনতা স্বাধীনতা, সবার আগে জনতা, সোনার খনি স্বাধীনতা, লক্ষ প্রাণের ত্যাগের কথা।

জাগে সংগ্রামী জনতা, ঊনিশ সাতাশি কুঁয়াশা ঢাকা।  স্বৈরাচার নিপাত যায়, গণতন্ত্র মুক্তি পায়।

নাবিক হাডসন যখন আমেরিকা উপনিবেশে আসে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জাহাজে করে ষোলো শতকে তখনও তিনি এই নদীকে মহিকণ্টক নামেই চিনেছেন। ইংরেজ নাবিক হাডসন কি চেয়েছিলেন এই নদীর নাম পরিবর্তন করতে হাডসন রাখতে? হিমবাহে তিরিশ হাজার বছর আগে জন্ম যে নদীর, তার নামে জেগে থাকে মোহক গীতি। মহিকণ্টক নামে জেগে থাকে মোহক গাঁথা গীতি। 

জাগিয়েছে ঢেউ মনে মহিকণ্টক নদী 

ভেসে যাক মোহক গীতি রোম সিটি আলবানী 

ইতিহাস থেকে উঠে আসে নদ নদীর গতি 

দিয়েছে ঢেউ এর জলে উচ্ছাস এর জ্যোতি  

যুগে যুগে আসে তার খোঁজে ঘুরে বহু নাগরিক জাতি 

বন্দরে আনাগোনা করে গ্রীক ভিনদেশি নাবিক  

জাগিয়েছে ঢেউ মনে মহিকণ্টক নদী 

ভেসে যাক মোহক গীতি রোম সিটি আলবানী 

পরধনে লোভে মত্ত হনু পরদেশ ভ্রমি(নু) আমি 

জলসিঁড়ি নদী বহে চলে এক সমূদ্র অভিমূখী 

একদা এক নদী ছিল কপোতাক্ষী, ধান সিঁড়ি 

বহুরূপী মাঝি নিলো ধান ভরি সোনার তরী   

জাগিয়েছে ঢেউ মনে মহিকণ্টক নদী 

ভেসে যাক মোহক গীতি রোম সিটি আলবানী 

হাডসন নদী খরস্রোতা অতি, অগতিরে দাও গতি 

তারাভরা রাতে আডিরণডেক পাহাড়ী আদিবাসী 

হাডসন নদী বন্দরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি 

বেদনার জলে ইন্টারপিড বণিকের রণতরী !

জাগিয়েছে ঢেউ মনে মহিকণ্টক নদী 

ভেসে যাক মোহক গীতি রোম সিটি আলবানী 

আর কিছু না হই, আমি তোমার হতে চাই,

আর কিছু না চাই, আমি তোমায় পেতে চাই,

তোমার জন্যে লক্ষ তারার আকাশ দিলাম পাড়ি, 

আমি তোমায় ভালবাসি।

চালতার স্বাদ মনে করে খাই মরিচের ঝাল মুখে,

মুখের ভিতরে এমন কিসু খাইনি জন্মে বাপুরে,

আসতেছে এক ঘুর্নিঝর, তোমার আমার মাঝেরে, 

ফ্ল্যাস লাইটের আলোতে হরিন, দেখেনা তেমন ভালরে।

আর কিছু না মিলে, আমি তুমি মিলে যাই, 

আর কিছু না খুঁজে, আমি তুমি চলে যাই  

আর কিছু না হই, আমি তোমার হতে চাই,

আর কিছু না চাই, আমি তোমায় পেতে চাই 

সবুজ বনে ফুলে গোলাপ থরে থরে  

তারা ফুটে জ্বল জ্বলে  

তোমার আমার তরে 

দেখেই দু নয়ন ভরে 

কি যে সুন্দর লাগে।

আকাশের ওপারে নীল 

মেঘ শুভ্র সারস 

রৌদ্র প্রখর দিন 

গোধূলি সন্ধি নৃত্য 

দেখি দুই নয়ন ভরে 

কিযে সুন্দর লাগে।

তোমার চোখে নদীর জলে জ্বলছে শিখা জ্বলুক,

তোমার চোখে জোনাকি জ্বলে জ্বলছে শিখা জ্বলুক,

পাহাড়ি নদী ভুলে নি অতীত ভুলে নি চেরোকি সুর

উন্ডে ইয়া হো, উন্ডে ইয়া হো!

এ কেমন জনম আহারে পাহাড়ে থাকে না মন,

কারে ছেড়ে এসেছো তুমি পাহাড়ে নদী হাডসন;

পাহাড়ি নদী ভুলে নি অতীত ভুলে নি চেরোকি সুর

উন্ডে ইয়া হো, উন্ডে ইয়া হো!

আডিরন্ডেক পাহাড় থেকে নামে নদী হাডসন,

মেঘের মধ্যে কান্না চেপে জেনেছে যুদ্ধ জীবন,

রণতরী যাচ্ছে বেয়ে, কান্ডারি সেই মহা জন,

শহরটাতে যাচ্ছে ছেয়ে বিষণ্ণ বরিষণ;

পাহাড়ি নদী ভুলে নি অতীত ভুলে নি চেরোকি সুর

উন্ডে ইয়া হো, উন্ডে ইয়া হো!

বন্ধুর বাড়ি আমার বাড়ি, মধ্যে এখানে এক নদী

উড়াল দিয়া আসবে পাখি, ভালোবাসো যদি!

নিশি রাতে তোমায় ভাবি, জ্বলে অন্তর বাতি;

তোমার হাতে বন্ধু জানি, জীবন প্রদীপ খানি।

উড়াল দিয়া আসবে পাখি, ভালোবাসো যদি!

তুমি আমার প্রাণ পাখি, তুমি বিনা কেমন থাকি;

তুমি কেমন রবে আখি, আমি যদি নাই থাকি।

তুমি আলো দাও যদি, আমি কি আর অন্ধ থাকি;

তুমি পথ দেখাও যদি, আমি কি হই বিপথ গামী।

উড়াল দিয়া আসবে পাখি, ভালোবাসো যদি!

সন্ধ্যা নামলে শহর নগরে 

আসলে কি তুমি আমার ঘরে 

মেঘের আড়ালে সূর্য লুকালে 

মেঘলা আকাশ জ্বলে রোদে।

(কেপাসো কেপাসো কেপাসো কেপাসো,

আবলা বাংলা আব্রাজো বাংলা)

মেঘ সরায়ে চন্দ্র উড়ে যায় চন্দ্রপুরী 

চলে গাড়ী মেঘের বাড়ী পথ দুধারে পাহাড়ি।

একটা হারিকেন সেই সময়ে 

এনে দিলো সব সুখ এক টানে। 

কি জানি কি হয় ভয়, 

মনটা থাকে আশঙ্কায়, 

সাবওয়ে ট্রেন ঝমা ঝম ঝম,

এক পা পিছালেই আলুর দম।

জরুরি কি একটা ছিল দরকার 

লগ ইন করি খুলে মেসেঞ্জার 

নোটিফিকেশন কোনো পাই নাই আর

ও জিনিষ আমার খুব দরকার 

ওহ ডিয়ার (তুমি বোলো)

ভুল ধরে কি কাজ  (হয় কোনো)

জিস ইজ থুঁ মাছ 

এক একে যদি এক হয়, দুই একে কেন এক নয় 

এক নয় এক নয় এক নয়।। 

জিস ইজ থুঁ মাছ 

(জিস ইজ থুঁ মাছ 

ভুল ধরা ই কি তোমার কাজ)

আহ্লাদ কারো বেশি কারো কম নয় 

হাতের আঙ্গুল পাঁচ কি সমান হয় 

বর্ণ গন্ধ দুই এক দুনিয়ায় 

ভুল গুলো ফুল হয়ে থাকতে চায় 

এক একে যদি এক হয়, দুই একে কেন এক নয় 

এক নয় এক নয় এক নয়।।

জানালার কাছে অংক নিয়ে বসে প্রশ্ন রাখি

উত্তর ঘরে প্রশ্ন বানে হয় বিদ্ধ পাখি   

দুপুর রাতে কোত্থেকে উড়ে আসে বসে একাকী

ও প্রশ্ন পাখি বলো উত্তর টা কি?

এক একে যদি এক হয়, দুই একে কেন এক নয় 

এক নয় এক নয় এক নয়।

যদি ফিরে চাই তোমায় তাই ভয় হয়, 

এই মনে ভয় অযথায় ঝড় হাওয়ায়, 

এই সব ভেভে, ভেভে ভেভে দিন চলে যায়,

(কুয়াশাচ্ছন্ন বিষন্ন সবই যে বৃথায়) 

যদি চেয়ে থাকি তোমার চোখে 

আটলান্টিক সাগরে ঢেউয়ে ঢেউয়ে, 

লোনা লবনের সাগরে, সুনামি হয়ে ফিরে আস সমতলে,

এই সব ভেভে, ভেভে ভেভে দিন চলে যায়, 

কুয়াশাচ্ছন্ন বিষন্ন সবই যে বৃথায়। 

এইসব ভুলে যাওয়া স্মৃতি গুলো, 

ছন্দ হয়ে কবিতায় খুঁজে তোমায়, 

বার বার ভুলতে গিয়ে ডাকি তোমায় 

ফিরাতে পারিনা আমি নিজেকে আমায়।

এই সব ভেভে, ভেভে ভেভে দিন চলে যায়, 

কুয়াশাচ্ছন্ন বিষন্ন সবই যে বৃথায়।

উত্থান না হলে জীবে যাবে যমালয়ে, কি আপন কি পর।

কে আপন কে পর, দেখলাম নারে জনম ভর, 

দিলাম বসত ঘর, কে আপন কে পর।।

লয়ে নিজ নারী, হাতে কাম মুখে নাম হরি 

পর পতি না স্পর্শিবে, পর সতী না স্পর্শিবে 

তুমি না ডাকিলেও হরি তোমারে ডাকিবে ।।

কে আপন কে পর।

সত্যবাদী জিতেন্দ্রীয়, হবে যে কেউ হরিতুল্য 

সদা সত্য কথা কবে, সদা সত্য কথা কবে  

তুমি না ডাকিলেও হরি তোমারে ডাকিবে।

কে আপন কে পর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *