ফুল ফুটে টবে ঝুলে থাকে

ফুল ফুটে টবে ঝুলে থাকে, নাসির উল্লাহ, নিউ ইয়র্ক ২০২১ 

স্বনির্বাচিত কবিতার সংকলন “ফুল ফুটে টবে ঝুলে থাকে”। প্রশংসা করা যাবে। কিন্তু পাওয়া যাবে না তাকে। ২০০০ থেকে ২০২০ পর্যন্ত লেখা কবিতার বাছাইকৃত সংকলন  “ফুল ফুটে টবে ঝুলে থাকে” সিরিজ থেকে কবিতা উদ্ধৃত করছি। 

উৎসর্গ: যে বলেছিলো,     

জানব কিভাবে কেমন করে করতে হয় কবির ঘর

আগে কখনও কবির সাথে করি নাই বাসর।

ফুল ফুটে টবে ঝুলে থাকে

 1.1

এটা সবার জানা- 

মানুষের ভিতর বেহুশ আদিমতা, 

যাকে তুলে আনে খুঁড়ে অনেকে, 

বিবেকের জঞ্জাল সরিয়ে, যদি না দেয় বৈধতা,

পাপ পুণ্যের কর্তা, পুণ্যদাতা,

জানবে সবাই, কাটবে আরো বর্ষ, যতদিন গ্রাস না করে পৃথিবীকে সূর্য; 

ততদিন থাকবো প্রিয় গ্রহে বিগ্রহ এড়িয়ে। 

একশো বছর পরও? থাকবে নক্ষত্র আরো; থাকবে শৃঙ্খলা, কাঠামো, 

পাবে পালকের বিছানা। পাবে শারীরিক নৈপুণ্যতা..

কি বলো? জানালার দিকে আঙ্গুল তুলে কি বলো দেখতে?

আলোকিত দিনে নয়, কেন?

কেন সময় অসময় জ্ঞান- কেন এই শীতলতা, পর্দা  সরে যায় জানালার উপরে।

ঐ পারে আছে দাঁড়িয়ে এক মূর্খ সূর্য । বহিরাগত।

সে ঘুরে বিদেশ যখন ঘরেই দশ দিগন্ত।

সূর্যবিদ্যা থাক বাইরে। 

ওদের নাক টেনে এনোনা ঘরে।

যেমন করে আমি টানি তোমারে!

1.2

পৃথিবী অনেক বড়; সৌরজগৎ আরো।

দেখতে চাওনা তুমি দশ দিগন্ত?

মাপতে চাওনা? চাওনা তুমি এইরকম দিনে-  ঘুমন্ত পাখিরা উঠবে জেগে, ধূমকেতুর আগুনে পুড়বে পাপিষ্ট হৃদয়;

এই আগুনের ঝড়  পারে  না নিভাতে কোনো গণিত কিংবা দর্শন, কোলাহলে  ভেসে আসে আপিস মুখী পাখিদের গুঞ্জন।

ঘুমন্ত পাখিরা উঠবে জেগে, এইরকম দিনে-  

উত্থিত হয় গাজর, সবজি ক্ষেতে

কুমড়া ফুল ঝরে রোদে, দিনে দুপুরে, 

ওদের নাক টেনে এনোনা ঘরে।

যেমন করে আমি টানি তোমারে।

1.3 

আমি দেখতে চাইনা দিগন্ত দশ আপাতত।

আমি মাপতে চাইনা সৌর জগৎ কত বড়।  

সূর্যের কাছ থেকে সময় জেনে নিয়ে, 

সময় যাচ্ছে বেড়ে দেখে পুড়ছে 

পাপিষ্ট হৃদয় ধূমকেতুর আগুনে; 

পোড়া মাটির বাটি হাতে নিরামিষ দিনে।

কেন অসময়ে যাচ্ছে ফুরায়ে সময় প্রভাতে,

যাও ত্বরা করে কাজে;

চন্দ্রাহত মানুষে পাবে কিউপিড আফ্রোদিতি, 

এই মাটিতে প্রতিনিয়ত পুড়ে যাবে মাটি।

আমি তো আমিনা নই কিংবা মায়া কুমারী,   

যে ঝড়ে ডুবে যাবে নদী ক্ষেত মাঠ চর, 

সে ঝড়ে ডুবেছি আমি; 

যাও ত্বরা করে কাজে;

দিও না সুবর্তুল বুক ছড়িয়ে উত্তপ্ত সিনায়, 

না হোক ভাজি হৃদয় আজ তামার তাওয়ায়।

এগুলো বাইরের বিষয়। এগুলো বহিরাগত।

ওদের নাক টেনে এনো না ঘরে।

যেমন করে আমি টানি তোমারে।

1.4

প্রভাতে ফুল ফুটে টবে ঝুলে থাকে,

কুমড়া ফুলের বড়া ফুটে কড়াইয়ে 

সলতে কালো হাতে অভিসার পুড়ে- অন্তহীনে 

সময় অসময় জ্ঞান চলেনা বাসরে, 

পোড়া মাটির বাটি হাতে ভিক্ষা করে কে লোকান্তরে,

ওদের নাক টেনে এনোনা ঘরে।

যেমন করে আমি টানি তোমারে।

1.5

আমি দেখতে চাইনা দশ দিগন্ত আপাতত।

আমি মাপতে চাইনা সৌর জগৎ কত বড়।

এ আগুনের ঝড় নিভাতে পারে না কোনো গণিত 

কিংবা দর্শন, পুড়ুক পাপিষ্ঠ হৃদয় ধূমকেতুর আগুনে, 

ত্বরা করে আস এই ঝড়ে, যেও না বাইরে,

যারা কাজে যায় আজকে, যাক তারা চুলায়, তাদের মতো তুমি যেও না আস্তাকুড়ে।

আসো এই ঝড়ে, এই ঘরে, পুনর্বার প্রহর সঙ্গমে,

অনর্থক মেঘ টেনে টেনে এনো না ঘরে।

যেমন করে আমি টানি তোমারে।

2

কাঁচি রোজ আসে 

রোজ আসে কাঁচি       

রোজ আসে বাগানে 

ফুল তুলে যায় কাঁচি 

একটি একটি একটি 

বাগানের শেষ ফুলটিও।

(কবিতার পাতা: ফেব্রুয়ারি ২০০০)

3.1/ অগণিত বই এর স্তুপ বিছানায়

আমি পড়তে পড়তে ঘুমাই।

আজকে আর ঘুম নাই,

পড়তে পড়তে পড়েই যাচ্ছি।

3.2/ কি পড়ছি?

ইতিহাস, উপনিবেশ, মানচিত্রের দর্শন।

তাইত আমার ঘুম আসে না!

মাথা হালকা করতে হাত বুলাই; বই খুঁজি, 

আধুনিক বাংলা কবিতা 

এক পাতা ওল্টাতেই

চোখের পাতায় ভর করে স্বপ্নেরা স্বপ্নেরা

পরের পাতায় খালি স্বপ্ন

আহা কি যে সুখ পাতায়! পাতায়

5.1 

দিয়েছে মাথা চাড়া, বিল্ডিংটা আটতলা;    

বিল্ডিং এর নিচে ওভাল পার্কে, 

বাগান ভরা টিউলিপ চারা। দিয়েছে মাথা চাড়া। 

বড় বড় গাছগুলা রয়েছে দাঁড়ায়ে ঝাড়া।  

আমার জানালা ভরা, রাশি রাশি রৌদ্র ছায়া, 

করতে আছে খেলা নিয়ে জটা নতুন পাতা, 

শুষ্ক প্রশাখায় ঘুমায় চেরিফুল শুভ্র প্রশান্ত, 

এই শহরের অট্টালিকার মাঝে কর আসন গ্রহণ; হে বসন্ত!

কবির রিদয় পাতায় ভর করে দিয়েছে মাথা চাড়া 

বাগান ভরা টিউলিপ চারা। শুভ বসন্ত। 

]

5.3

আসছি বলে তুমি জবান দিলা খালি

সাদা শার্ট খাকি প্যান্ট পরা একজন বাগানের মালি 

পার্কের বেঞ্ছিতে বসে দেয় অনবরত গালি, 

রবিন আর বুলবুলি প্রেমে মজে আসেপাশে । 

প্রেমে মজে আসেপাশে রেনু বাহি পাখি, ঝাক ধরে উড়ে যাক মরার বুলবুলি, এ যুগের ড্রোন উড়ন্ত মৌমাছি,

তারা যেন না খায় গুলি, মরুক যত ছায়া শিকারী আছে তাদের পিছে,  

যেখানে পাক মৌচাক তারা যাক মজে, ক্যাম্পে পানির ফোয়ারার কাছে, 

টিউলিপ ফুল ফুটে টবে ঝুলে থাকে,  জীবনানন্দের হরিণ গুলো এসেছিলো ক্যাম্প ছেড়ে জোৎস্নায় গভীর রাতে, হরিণীর শীৎকার শুনে এসেছিলো তারা ধীরে ধীরে গভীর বনের রাস্তা ছেড়ে, নদীর কিনারে। 

মনে ছিল ভাব জায়গা যদি থাকে একটুখানি বসে থাকা যাক, 

তৃষ্ণার্ত হরিণ এক হরিণীর ডাক শুনে পেয়েছিলো আশ্বাস,  

আজ হরিণেরা দূর্বা ঘাস, ধূলিময় দিনে অবসর কাটাক 

নিষিদ্ধ ফুল ফুটে টবে ঝুলে থাক

]

5.4

অনেক দিন পর দেখা আবার মালিনি আমার, 

আজ কোনো তাড়া নাই ঘরে ফিরবার, 

তবে  ফিরে যেতে হবে আমার স্বদেশ এবার।

যেখানে ইচ্ছা ছিল পাসাপাশি বসবার 

স্বদেশ বলছি আসলে খুঁজছি নদীর পার। 

জায়গাটা পছন্দ খুউব? 

জিগায় আবার। হাডসন নদীর পার, 

যেখানে মৌমাছি দম্পতি প্রেম করে ফুলের শয্যায়, 

বসার জায়গা নাই সেখানে আর, 

কোথায় পাই খুঁজে জায়গা যাওয়ার?  

কোথাও আর নাই জায়গা যাওয়ার, 

মৌমাছি মোহিনী দংশাল এইবার, 

এর চেয়ে বেশি আর কি ছিল দরকার। 

ওইদিকে যাওয়া যায় ম্যানহাটন থেকে এলিস আইল্যান্ড, 

ফেরি করে পার হই হাডসন নদী আর, 

সেখানেও ঠাই নাই, ঠাই নাই পা ফেলার, 

এমন ই উন্নত হয়েছে পর্যটন অবস্থার, 

আর কি কি আছে কপালে আমার, 

প্যাচান ত্যানা তাই স্কন্ধে তুলে কই

কবে হবে অবসান প্রতিটি অপেক্ষার। 

পার্কের বেঞ্চিতে বসে অবসর কাটাবার 

কি ছিল দরকার। 

]

5.5

সময় চলে গেছে। আসে নাই সে আর। 

নাই কোনো কাজ সত্যই বাকি আর আমার, 

সময় দিলে কি যায় দেখা পরিপূর্ণতার। 

বসন্তে ফুটে কুড়ি, মালিনি সাজে পরী 

ভালো লাগে সবার, জন্মেছে নতুন কুড়ি, 

তাই দিয়ে তৈরী করি খোপায় তারা ফুল, 

গড়ি গলার মালা, কানের দুল, 

হাতের বালা, ও চুড়ি। 

এখন আর ইচ্ছাই নাই, কিছুই হলোনা আমার 

পার্কের বেঞ্চিতে বসে অবসর কাটাবার