মহিকণ্টকের কবিতা

পরিবেশ বিপন্ন; এক মহাসাগর সমান তৃষ্ণা আটলান্টিকের জলে। বুকে হারিকেন। হারিকেনের বুকের নিচে ঢেউয়ে ভেসে যায় ট্রয় উপনগর। হারিকেনের বুকের নিচে আমরা হতে থাকি এফড় ওফড়। নাই আর কোন হেক্টর ট্রয় এর ধংস ঠেকাতে? এক মহাসাগর সমান তৃষ্ণা বুকে জেগে উঠে হারিকেন আটলান্টিকের জলে। আপস তর্ক জুড়ে নদীর পাড়ে গাছেরা বাতাসের সাথে। ইন্টারপিড যুদ্ধ জাহাজ এলো বলে আটলান্টিক এর উপকুলে। বিদেশী ষড়যন্ত্রের ভয়ে এ সমাজ সজ্জিত হলে মারণাস্ত্রে; বাড়ে দূষণ নদীর জলে। প্রতিরক্ষার নামে বাড়ে প্রতিঘাত দেশে দেশে। পদাতিক সৈনিক দলের উত্থান হলে, নর্থ আমেরিকান গ্লেসিয়ার গলে, জেগে উঠে হারিকেন আটলান্টিকের জলে। এক মহাসাগর সমান অভিমান বুকে হারিকেন আটলান্টিকের জলে। নুহের সতর্ক সঙ্কেত ঝুলে, লবনাক্ত সমতলে। তৃষ্ণার্ত ফুসফুস মহাসাগর ফেলে কায়াকিং করে হাডসন নদীতে, সুনামি হয়ে। মহামারী বাড়ে হাডসনের জল, নাই আর কোন হেক্টর ট্রয় এর ধংস ঠেকাতে? আলবানী ট্রয় উপনগরে! আমেরিকান আদিবাসি ঘরে উঠানে

মহিকণ্টকের কবিতার পটভূমি। আলগোনকুইন ভাষা প্রাচীন আমেরিকান আদিবাসী ভাষা গুলোর অন্তর্ভুক্ত। প্রাচীন ভারতবর্ষে যেমন সংস্কৃত কে বিবেচনা করা হত আদি ভাষা গুলোর অন্তর্ভুক্ত ভাষা হিসাবে, ঠিক তেমনি; বিভিন্ন আদিবাসী গোত্র- মোহক, ওনোন্দাগা গোত্রের মানুষ এলগোনকুইন ভাষায় কথা বলতো। এলগোনকুইন ভাষায় মহিকণ্টক অর্থ দুই দিকে প্রবাহিত নদী, নিউইয়র্ক শহরের হাডসন নদী দুই দিকে প্রবাহিত নদী; নাবিক হেনরি হাডসন যখন আমেরিকায় আসে ১৬০৯ সালে তখন ও এই নদীর নাম মহিকণ্টক ছিল। উত্তর আমেরিকার আদিবাসী গোত্র – মোহক, মোহিকান, ওনোন্দাগা, ওপিগনার গোত্রের মানুষ- যারা হাডসন নদীর তীরে বাস করতো, তারা দেখতো জোয়ারের সময় লবনাত্মক আটলান্টিকের পানি ম্যানহাটনের দক্ষিণ থেকে প্রবাহিত হয়ে উত্তরে অবস্থিত নিউ ইয়র্কের রাজধানী আলবানী’র ট্রয় উপনগর পর্যন্ত যায়। আর উত্তরে আডিরন্ডক পাহাড় অবস্থিত  হাডসন নদীর উৎসস্থল (মাউন্ট মার্সির চূড়ায় অবস্থিত টিয়ার্স ওব ক্লাউড নামক লেক) থেকে প্রবাহিত হয় সতেজ পানি আটলান্টিক অভিমুখী সব সময়। একই নদীতে দুইটি জলধারা! এলগোনকুইন ভাষায় মহিকণ্টক অর্থ দুই দিকে প্রবাহিত নদী,  নিউইয়র্ক শহরের হাডসন নদী দুই দিকে প্রবাহিত নদী। 

মহিকণ্টক একটি নদী। এই নদী ইতিহাসের সব নদ নদীর অবাধ গতিময়তা হরণ করে নেচে নেমেছে পাহাড়ী খাদ ধরে, আডিরন্ডেক পাহাড় থেকে, নিউ ইয়র্ক আর নিউ জার্সি ‘র সীমান্তে, দুইমুখি স্রোতে টানা পোড়েন চলে এই নদীর জলে! পরিচিত এই নদী প্রিয় অতি সবার কাছে, মহিকন্টক নাম রেখেছিলো এলগোনকুইন ভাষী।

হাডসন নদীর রূপ দেখে মনে পরে, বংশী নদীর কালো পানি সাভারে। জট দেখেছি গাছে বটের শিকড়ে; সন্ধ্যা রাতে নদীর কুলে হাওয়া, নৌকা করে ঘুরতে যাওয়া আহারে। হে নদী আমি ভালবাসি তোমারে। আমার মতন করে আর কে চেনে তোমারে, নিউ ইয়র্ক শহরে।

আমেরিকান সমাজ দেখার, এবং বাংলা সংস্কৃতির সেতুর সাথে যুক্ত থাকার আকাংখা আর ভালবাসার ফসল ‘মহিকন্টক’ রচনা কাল ২০১৪-১০১৯